আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু মামলার তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাব প্রতিবেদন দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়ায়  ঢাকা মহানগর হাকিম মিল্লাত হোসেন নতুন এ দিন ধার্য করেন। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনিকে রাজধানীর রাজাবাজারে তাদের ভাড়া বাসায় হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

আট বছর আগে সংঘটিত একটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের ঘটনায় এলিট ফোর্স বলে কথিত র‍্যাবের মত  সংস্থার কাছ থেকে  আজ পর্যন্ত একটি তদন্ত প্রতিবেদন না পেয়ে বিশ্মিত ও হতাশ দেশের সাংবাদিক নেতারা এবং সুশীল  সমাজ। সাংবাদিক দম্পতির হত্যার তদন্ত ও সুষ্ঠ বিচারের দাবিতে সোচ্চার সাংবাদিক সমাজের অন্যতম নেতা মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল রেডিও তেহরানের কাছে তার ক্ষোভ ব্যক্ত করে জানান, বাংলাদেশের কোন মামলায়  কেবল তদন্ত প্রতিবেন দেবার জন্য  এতবার  তারিখ পরিবর্তন করা হয়নি। আট বছরের বেশী সময় পার করেও যদি তদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া যায় তাহলে এ মামলার  বিচারকার্য কবে শুরু হবে এবং কবে নাগাদ  শেষ হবে তার তো কোন নিশ্চয়তা নেই।

তিনি  আরো বলেন, আলোড়ন সৃষ্টিকারী এরকম একটি হত্যা মামলার দীর্ঘসূত্রিতা থেকে এটাই প্রমাণ হয় দেশে বিচার হীনতার সংস্কৃতি কতটা গেড়ে বসেছে। এ অবস্থায় সরকারকেই এর  দায়ভর বহন করতে হবে। উল্লেখ্য, এ হত্যাকান্ডের পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  সাহারা খাতুন ৪৮ ঘন্টার মধ্যে খুনীদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এ প্রসংগে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড: মিজানুর রহমান মন্তব্য করেছেন সরকারের উচ্চমহল থেকে আশ্বাস দেওয়ার পরও যখন এরকম একটি  হত্যাকান্ডের তদন্ত প্রতিবেদন দিতে এত দীর্ঘ  সময় নেয়া হয় , তখন সেটি বিচাহীনতার সাংস্কৃতিকেই তুলে ধরে।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার প্রথম তদন্তভার দেয়া হয় রাজধানীর শেরে বাংলা নগর থানার এক উপ-পরিদর্শককে। চারদিন পর মামলার তদন্তভার হস্তান্তর করা হয়  ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে। দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে  তদন্ত করে রহস্য উদঘাটনে অপারগ  হয় ডিবি।

পরে হাইকোর্টের নির্দেশে একই বছরের (২০১২ সাল) ১৮ এপ্রিল হত্যা মামলাটির তদন্তভার র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তারপর নিহত সাংবাদিকদের মৃতদেহ কবর থেকে তুলে দ্বিতীয় দফা ময়না তন্ত করা হয়। ডিএনএ টেষ্টের জন্য  তাদের নমুনা আমেরিকার তদন্ত সংস্থা এফবিআই’র কাছে পাঠানো হয়। সেখান থেকে রিপোর্টও পাওয়া গেছে। আটক সন্দেহভাজনদের সাথে তার মিল-অমিল যাচাই করা হয়েছে। রহস্য প্রায় উন্মোচিত হবার আশ্বাস দেওয়া  হয়েছে নানা সময়।

পিতা-মাতার নৃশংস হত্যার প্রত্যক্ষদর্শী একমাত্র সন্তান শিশু মেঘ দু:স্বপ্নের স্মৃতি নিয়ে মাস-বছর পেড়িয়ে এখন কিশোর। তদন্ত ও বিচারের দাবীতে সাংবাদিকদের রাজপথে আন্দোলন, মানব বন্ধন, মহাসমাবেশ, অফিসে কর্ম-বিরতি আর সরকারর সাথে বৈঠকী দেন-দরবার সবই এখন স্তিমিত। বিচার দেখার আশায় বছরের পর অপেক্ষা করে দেশবাসীর স্মৃতিতেও এতদিনে ঝাপসা হয়ে গেছে বিষয়টি। আর সাগরের মা সালেহা মনির কয়েক বছর আগেই সাগর রুনির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার বা বিচারের আশা ছেড়ে দিয়েছেন৷ তাঁর দুঃখ যে তিনি আজও জানতে পারলেন না কেন তাঁর ছেলে এবং ছেলের বউকে হত্যা করা হলো৷ কারা হত্যা করল? হত্যাকারীরা প্রভাবশালী বলেই তাদের আড়াল করা হয়েছে বলে মনে করেন সালেহা মনির৷ তাই চরম হতাশা আর দু:খ নিয়ে তিনি বলেছেন, এখন আল্লাহর কাছে বিচার চাওয়া ছাড়া আর কোনো ভরসা নেই তার।

#পার্সটুডে