প্রতি বছর সারা বিশ্বে উৎপাদিত মোট খাদ্যের ১৩০ কোটি টনই ফেলে দেয়া হয়। অথচ এই খাবার দিয়ে বিশ্বের ক্ষুধার্ত মানুষের খাবারের অভাব পূরণ করা সম্ভব। সম্প্রতি বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বিশ্ব ঝুঁকি সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য। অপচয় রোধ করে বিশ্বব্যাপী অপুষ্টিতে ভোগা লাখ লাখ মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করার পদক্ষেপ নিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা।

আফ্রিকা থেকে এশিয়া, তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে এখনও মানুষ দিন কাটায় ক্ষুধার জ্বালায়। এক হিসেবে দেখা যায়, বিশ্বের ৮০ কোটি মানুষ ক্ষুধা আর অপুষ্টিতে ভোগে। ভিন্ন চিত্র ইউরোপসহ উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে। রেঁস্তোরা, পাবে হৈ-হুল্লোর আর রাতভর খানা-পিনার নামে চলে অপচয়। অথচ বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের এক হিসেব বলছে, উৎপাদন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিপণন আর গ্রহণ, খাদ্যচক্রের এই প্রক্রিয়ার শুরু থেকে শেষ পর্যন্তই খাবারের অপচয় হয় দেদারছে। এরমধ্যে উৎপাদনের সময় ৫০ কোটি টন, সংরক্ষণ আর গ্রহণের সময় ৩৫ কোটি টন খাবারের অপচয় হয়। সুপারমার্কেট, দোকানপাট এমনকি বাসা বাড়ি থেকেই ৩৫ শতাংশ খাবার ফেলে দেয়া হয়। ২০১৮ সালে জাতিসংঘের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০৩০ সাল নাগাদ সারাবিশ্বে খাবার অপচয়ের পরিমাণ ২০০ কোটি টনে পৌঁছাবে।

এই খাদ্যের অপচয় রোধে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার অধীনে কিছু পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে জাতিসংঘ। ২০৩০ সাল নাগাদ উৎপাদন থেকে বিপণন, সব ক্ষেত্রেই খাবারের অপচয় অর্ধেকে নামিয়ে আনবে তারা। এজন্য অতিরিক্ত খাবার কেনাকে নিরুৎসাহিত করা, অতিরিক্ত খাবার দান করা, খাবার সঠিক উপায়ে সংরক্ষণ করার পরামর্শ দিচ্ছে ফাও।

এই সময়ে বিশ্বের মোট জনসংখ্যা ৮০৬ কোটিতে পৌঁছাবে। ২০২০ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে নতুন করে আরো ২০০ কোটি মানুষ যোগ হবে এই গ্রহে। বাড়তি মানুষের খাবারের যোগান দিতে হয় উৎপাদন আরো ৬০ শতাংশ বাড়াতে হবে, না হয় অপচয় বন্ধ করতে হবে বলে জানিয়েছে ফাও।