আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিলেন ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীর মা বিউটি অধিকারী। এ ছাড়া আদালতে হাজির না থাকায় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষিকার জামিন বাতিল করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ঠিক করেছেন ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রবিউল আলম।

ওই আদালতের সরকারি কৌঁসুলি সালাহউদ্দিন হাওলাদার বলেন, স্কুলের শিক্ষকদের খারাপ আচরণের কারণে অরিত্রী আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়। অরিত্রীর আত্মহত্যার ঘটনা তুলে ধরার সময় আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন অরিত্রীর মা। আদালতে তিনি বলেন, আর কিছুই তিনি চান না। তিনি চান কেবল সঠিক বিচার। জামিন বাতিল হওয়া দুই শিক্ষিকা হলেন ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস ও শাখাপ্রধান জিনাত আখতার। গত বছরের ২৮ মার্চ তাঁদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। এ মামলায় এর আগে আদালতে সাক্ষ্য দেন অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারী।

গত বছরের ৪ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন থানায় অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারী বাদী হয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির তৎকালীন অধ্যক্ষ-শিক্ষকসহ তিনজনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলায় অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারী অভিযোগ করেন, পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষক অরিত্রীর কাছে মুঠোফোন পান। মুঠোফোন দিয়ে নকল করেছে—এমন অভিযোগে অরিত্রীকে তার মা-বাবাকে নিয়ে স্কুলে যেতে বলা হয়। তিনি (দিলীপ অধিকারী) স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে স্কুলে গেলে উপাধ্যক্ষ তাঁদের অপমান করে কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। মেয়ের টিসি (স্কুল থেকে ছাড়পত্র) নিয়ে যেতে বলেন। পরে অধ্যক্ষের কক্ষে গেলে তিনিও একই রকম আচরণ করেন। এ সময় অরিত্রী দ্রুত অধ্যক্ষের কক্ষ থেকে বের হয়ে যায়। পরে বাসায় গিয়ে দিলীপ অধিকারী দেখেন, অরিত্রী তার কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়নায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলছে। শান্তিনগরের বাসা থেকে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। গত বছরের ৩ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে চিকিৎসকেরা অরিত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন।