এই ১০১টি সামরিক সরঞ্জাম বিদেশ থেকে আমদানি করতে প্রায় চার লক্ষ কোটি টাকা লাগে। সেই সব সামগ্রী এ বার দেশেই বানানোর সিদ্ধান্ত নিল মোদী সরকার। তবে এখনই ওই সবকটি সামরিক সরঞ্জামের আমদানি বন্ধ করা হচ্ছে না। কয়েকটি ক্ষেত্রে অবিলম্বে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। বাকি সরঞ্জামের ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে হবে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ওই ১০১টি জিনিস ভারতে বানানো হবে। পরিকল্পনা হলো, বর্তমান সরকারের মেয়াদ যখন শেষ হবে, তখন এই ১০১টি সামরিক জিনিস ভারতে তৈরি হবে।

অবসরপ্রাপ্ত লেফটানান্ট জেনারেল উৎপল রায়চৌধুরী ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, ”এই চেষ্টা প্রথম করেছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। কিন্তু সেই সময় সরকারি প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিআরডিও-র যতটা দ্রুত কাজ করা উচিত ছিল, সেটা তারা করতে পারেনি। একটা অস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে দশ বছর বা তার বেশি সময় নেয়া হলে প্রযুক্তি পুরনো হয়ে যায়। তখন উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে অন্যরা চলে আসে। আমাদের ক্ষেত্রে সেটাই হচ্ছিল।”

রাজনাথ জানিয়েছেন, মোদী সরকার এই বিয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকার যেমন রাশিয়া থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকা দিয়ে অত্যাধুনিক ফাইটিং ভেহিকেল আনার কথা ভাবছিল। টাকাও বরাদ্দ হয়েছিল। কিন্তু এখন ঠিক হয়েছে, সেগুলি দেশেই বানানো হবে। একইরকমভাবে নৌবাহিনীর ছয়টি সাবমেরিনও বিদেশে অর্ডার করা হবে না। সেগুলিও দেশে বানানো হবে। যে সব সমরাস্ত্র বা সরঞ্জাম বানানোর প্রযুক্তি এখনই দেশে আছে বা দেশের কোম্পানির কাছে আছে, সেগুলি আর বিদেশের থেকে আনা হবে না। রাজনাথের আশা, চার থেকে ছয় বছরের মধ্যে সামরিক সরঞ্জাম বানানোর ক্ষেত্রে ভারতে চার লাখ কোটি টাকার বিনিয়োগ হবে।

দীর্ঘদিন ধরে ভারত হলো বিশ্বের অন্যতম বড় অস্ত্র আমদানিকারী। সেই জায়গাটা থেকে সরে আসতে চাইছে সরকার। দীর্ঘদিন ধরে ভারতে কেবলমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংস্থাগুলিই সামরিক সরঞ্জাম বানাতো। কিন্তু এখন সেই অবস্থা আর নেই। এখন বেসরকারি সংস্থাগুলিকেও প্রতিরক্ষাক্ষেত্রে ঢুকতে দিয়েছে সরকার। যে ১০১টি সামরিক সরঞ্জাম বাইরে থেকে না আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেগুলি রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ও বেসরকারি সংস্থা যে কেউ বানাতে পারবে। এর ফলে বেসরকারি সংস্থাগুলি নতুন কারখানা তৈরিতে উৎসাহী হবে। ভারতে একটা সুযোগ তৈরি হবে।