দীর্ঘদিন ধরেই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগসহ বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন পপ তারকা ফেরদৌস ওয়াহিদ। এর মধ্যে ১০ দিন আগে জ্বরে আক্রান্ত হন তিনি। এরপর করোনায় আক্রান্ত কি না, নিশ্চিত হওয়ার জন্য বেসরকারি একটি হাসপাতালে পরীক্ষার জন্য তাঁর নমুনা দেওয়া হয়। ফলাফল নেগেটিভ আসে। কিন্তু জ্বর কমছিল না। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাঁকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়।

শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখেন চিকিৎসকেরা। ওই দিন সন্ধ্যায় করোনা পরীক্ষার জন্য তাঁর নমুনা নেওয়া হয়। গত শুক্রবার সেই পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে, জানিয়েছেন ফেরদৌস ওয়াহিদের বন্ধু গণসংগীত শিল্পী ফকির আলমগীর। ফকির আলমগীর আরও বলেন, ‘ফেরদৌস ওয়াহিদ সদা হাস্যোজ্বল, পরোপকারী, শিশুর মতো সরল মানুষ। সে একটা বোহেমিয়ান মানুষ। ঢাকা থেকে অনেক দূরে থাকে। ইনবক্সে আমাদের কথা হতো নিয়মিত। পুরোনো স্মৃতি তুলে ধরার জন্য আমার খুব প্রশংসা করেছিল সে।’

বন্ধুর জন্য দোয়া প্রার্থনা করে ফেসবুকে একটি পুরোনো দিনের ছবি পোস্ট করেছেন ফকির আলমগীর। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু পপ লিজেন্ড ফেরদৌস ওয়াহিদের সঙ্গে সংগীতজীবনের ৫০ বছরে সুখ-দুঃখের আনন্দ-বেদনার অনেক স্মৃতি। এখন সেই চিরসবুজ নায়ক, তারুণ্যের প্রতীক ফেরদৌস ওয়াহিদ সিএমএইচের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। দেশবাসীর কাছে তার রোগমুক্তির জন্য দোয়া চাইছি।’

পাঁচ দশক ধরে গান করে আসছেন গুণী সংগীতশিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদ। দীর্ঘ সংগীত ক্যারিয়ারে অনেক জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন কিংবদন্তি এই পপ তারকা। গায়কের পাশাপাশি নায়ক ও চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। ফেরদৌস ওয়াহিদের জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে ‘মামনিয়া’, ‘আগে যদি জানতাম’, ‘এমন একটা মা দে না’, ‘তুমি-আমি যখন একা’ উল্লেখযোগ্য। সিনেমায় গাওয়া ফেরদৌস ওয়াহিদের জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে ‘আমার পৃথিবী তুমি’, ‘ওগো তুমি যে আমার কত প্রিয়’, ‘আমি ঘর বাঁধিলাম’, ‘আমি এক পাহারাদার’।