টনসিল সমস্যায় ভুগেন নাই এমন মানুষ কম রয়েছেন। প্রত্যেকেই জীবনে কখনো না কখনো অল্প-বেশি টনসিলের সমস্যায় পড়তে হয়েছে। এটি এমন বস্তু যা আমাদের প্রত্যেকের গলায় থাকে, ঠান্ডা পানি খেলে বা ঠান্ডা খাবার খেলে কিংবা ঠান্ডা বাতাসে এই সমস্যা বৃদ্ধি পায়। কিন্ত গলা ব্যথা করছে, খেতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে পড়লে টনসিল হয়েছে কি না সে জানা যাবে শরীরের চারটি লক্ষণ দেখে।

টনসিল এক ধরনের লিমফয়েড টিস্যু। মানবদেহে গলার ভিতরে দুইপাশে একজোড়া টনসিল থাকে। কোন প্রকার প্রদাহ বা ইনফেকশন হলে আমরা এটাকে টনসিলাইটিস বলি। টনসিল ইনফেকশন সাধারণত ৩ হতে ১২ বছরের বাচ্চাদের মধ্যে বেশী দেখা যায়। তবে বড়দের ক্ষেত্রে যে একেবারেই হয় না তাও নয়। ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় টনসিল ইনফেকশন এর জন্য ভাইরাস দায়ী। অন্যান্য ব্যাকটেরিয়া দিয়েও টনসিলাইটিস হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে বারবার ঠান্ডা সর্দি লাগা, পুষ্টিহীনতা, পরিবেশ দূষণ, দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অপর্যাপ্তও এই ইনফেকশন এর কারণ হতে পারে।

টনসিল ইনফেকশন হলে কিভাবে বুঝবেন-

১. জ্বর হতে পারে ১০৩-১০৪০ ফারেনহাইট।

২. গায়ে ব্যথা, মাথা ব্যথা, কানে ব্যথা হতে পারে।

৩. গলা ব্যথা ও খাবার গিলতে সমস্যা হতে পারে।

৪. বাচ্চাদের ক্ষেত্রে মুখ দিয়ে লালা পড়তে দেখা যায়।

৫. এরকম সমস্যা যদি হয় আমরা এটাকে তীব্র ইনফেকশন বলি। চিকিৎসকের উপদেশ অনুযায়ী নিয়মিত ভাবে এবং সঠিক সময়ে ঔষধ সেবন করলে এ সমস্যা হতে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

সাধারণত এন্টিবায়োটিক, মাউথ ওয়াশ, ব্যথার ওষুধ, প্রচুর পরিমাণ পানি গ্রহণ এর মাধ্যমে এই ইনফেকশন এর চিকিৎসা করা হয়। কেউ যদি সঠিক ভাবে চিকিৎসা গ্রহণ না করে সেক্ষেত্রে ক্রনিক বা দীর্ঘমেয়াদী ইনফেকশন হয়। তাই এ ধরনের সমস্যা হলে অবহেলা করা উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ মত, ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত।