একবারে জম্মু কাশ্মীর থেকে দশ হাজার (১০০ কোম্পানি) আধা সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার৷ গত বছর অগাস্ট মাসে জম্মু এবং কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা বাতিলের ঘোষণা করার পর সেখানে অতিরিক্ত বাহিনী পাঠানো হয়েছিল৷ তার পর এই প্রথম একসঙ্গে এই বিপুল সংখ্যক বাহিনীকে প্রত্যাহার করা হচ্ছে৷

জম্মু কাশ্মীরের পরিস্থিতি এবং সেখানে কত পরিমাণ সশস্ত্র আধা সামরিক বাহিনী প্রয়োজন তা পর্যালোচনা করার পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক৷ গত মে মাসে জম্মু কাশ্মীর থেকে ১০ কোম্পানি আধা সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করা হয়েছিল৷ তারও আগে ডিসেম্বর মাসে আরও ৭২ কোম্পানি বাহিনীকে ফেরানো হয়েছিল৷ এক শীর্ষ সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, অবিলম্বে দশ হাজার সশস্ত্র আধা সামরিক বাহিনীকে জম্মু কাশ্মীর থেকে দেশের বিভিন্ন অংশে তাঁদের মূল ঘাঁটিতে ফেরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ নির্দেশিকা অনুযায়ী, সিআরপিএফ-এর ৪০ কোম্পানি, সিআইএসএফ-এর ২০ কোম্পানি, বিএসএফ-এর ২০ কোম্পানি এবং সশস্ত্র সীমা বল বা এসএসবি-র কুড়ি কোম্পানি করে জওয়ানদের ফেরানোর কথা বলা হয়েছে৷

বিভিন্ন বাহিনীর এই জওয়ানদের জম্মু কাশ্মীর থেকে আকাশপথে দিল্লি সহ দেশের অন্যান্য অংশে ফেরানোর জন্য সিআরপিএফ-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ কেন্দ্রীয় সশস্ত্র আধা সামরিক বাহিনীর প্রতি কোম্পানিতে ১০০ জন করে জওয়ান থাকেন৷ আধা সামরিক বাহিনীর যে জওয়ানদের ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, তাঁরা শ্রীনগরের পাশাপাশি জম্মুতেও মোতায়েন ছিলেন৷ সিএপিএফ-এর অফিসার জানিয়েছেন, যেহেতু জম্মু কাশ্মীরে এই মুহূর্তে জঙ্গি দমন অভিযান এবং বিক্ষোভ দমনের জন্য যথেষ্ট আঁটোসাঁটো নিরাপত্তা রয়েছে, ফলে এই সময়টাই বাহিনীর জওয়ানদের প্রয়োজনীয় বিশ্রাম এবং প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা যাবে৷ তাছাড়া সামনের শীতের মরশুমে কাশ্মীরের মতো জায়গায় বাহিনীর জওয়ানদের অস্থায়ী থাকার জায়গায় রাখাও কষ্টকর হত৷ সবকিছু বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷

এই সিদ্ধান্তের ফলে আপাতত কাশ্মীর উপত্যকায় জঙ্গি দমনের জন্য মূল দায়িত্বপ্রাপ্ত সিআরপিএফ-এর ৬০টি ব্যাটেলিয়ন থাকবে৷ প্রতিটি ব্যাটেলিয়নে ১০০০ করে জওয়ান থাকেন৷ এর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র আধা সামরিক বাহিনীর কয়েকটি ইউনিটকেও কাশ্মীরে রাখা হচ্ছে৷