অনেকেই ভাবেন, এত কাজ, ভালো লাগে না। সারাদিন শুয়ে, বসে কাটিয়ে দিতে পারলে বেশ হত। কিন্তু তার উপায় নেই, কারণ, পেটের দায়ে কাজ করতেই হবে। কিন্তু ভাবুন, এমন যদি হত, যেখানে কেবল শুয়ে, বসে, আলস্যে দিন কাটানোর জন্যই আপনাকে ভাতা দেওয়া হত, তাহলে কেমন হত? তেমনই ব্যবস্থা করেছে জার্মানির একটি বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে দেওয়া আলস্যের ভাতা। মানে, আপনি সারাদিন ‘‌ল্যাদ’‌ খাবেন, আর আপনাকে টাকা দেবে বিশ্ববিদ্যালয়। এমনই পরিকল্পনা।

হামবুর্গের ‌The University of Fine Arts এমনই এক আলস্যের ভাতা দেওয়ার কথা বলেছে। সেটির পরিমাণ ১৬০০ ইউরো। ভারতীয় অর্থে যে টাকার পরিমাণ প্রায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা। আর এই টাকা পাওয়া যাবে কিচ্ছু না করার জন্য। মানে এখানে কিচ্ছু না করাটাই আপনার কাজ। কিন্‌তু এমন উদ্ভট প্রস্তাব দেওয়ার মানে কী?‌ আসলে একটি সামান্য ভাবনা থেকে এই গবেষণা করার শুরু। মানুষের মধ্যে কাজ করার ও অবসর যাপনের যে যৌথ ইচ্ছা থাকে, তার ভাগ যাচাই করতেই এই পরীক্ষা করা হবে। ফ্রেডরিখ বন বরিস নামে গবেষকর বলেছেন, ‘‌আপাতভাবে বিষয়টিকে ঠাট্টা মনে বলেও এটি ঠাট্টা নয়। যেখানে একটি সমাজ সাফল্য আর তার স্বার্থকতার উপর দাঁড়িয়ে আছে, সেখানে অবসর যাপনের চূড়ান্ত রূপ কী হতে পারে, সেটাই দেখা উদ্দেশ্য। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বিশেষ প্রোগ্রামের আগে চারটি প্রশ্ন অংশগ্রহণকারীকে করা হবে।
১.‌আপনি কী করতে চান?‌
২.‌ কতদিনের জন্য এই কাজটা আপনি করতে চান?‌
৩.‌ কেন এই কাজটি না করা, বা করা আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
৪.‌ কেন এটি না করার ক্ষেত্রে আপনিই সেরা ব্যক্তি।

গবেষকরা বলেছেন, তাঁরা ‘‌সচল অচলতা’‌ বা অ্যাক্টিভ ইন্যাক্টিভিটি নিয়ে কাজ করতে চান। চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হবে, এটা দেখে যে অংশগ্রহণকারীরা কতক্ষণ কিছু না করে থাকতে পারছেন। তার পাশাপাশি কোন ধরনের কাজ তাঁরা করতে চাইছেন না, সেটাও বিচার করে দেখা হবে। সেপ্টেম্বর মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত এই প্রোগ্রামের ফর্ম জমা দেওয়া যাবে। তারপর জুরির সামনে উপস্থিত হয়ে নিজের পরিকল্পনা উপস্থাপিত করে তাঁদের সমর্থন আদায় করতে হবে। তাহলেই ২০২১ সালের জানুয়ারি মাস থেকে স্কলারশিপ পাবেন ও এই গবেষণা অংশ হবেন নির্বাচিতরা।