বাস্তবতা হচ্ছে, ইসরাইলের সঙ্গে কোনো কোনো আরব সরকারের সম্পর্ক স্বাভাবিক করা বা তাদের সঙ্গে সহযোগিতা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নতুন কিছু নয়। গত কয়েক দশক ধরে আমিরাত ও বাহরাইনসহ রাজতন্ত্র শাসিত আরো বেশ কয়েকটি দেশ ইসরাইলের সঙ্গে গোপনে সহযোগিতা বজায় রেখে চলেছে এবং এখন তা প্রকাশ্যে এসেছে মাত্র। এ পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনিদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং তাদের  এখন কি করা উচিত  তা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ।

প্রথমত, বিরাজমান পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিন স্বশাসন কর্তৃপক্ষকেই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তাদের এটা বুঝতে হবে যে, ইসরাইলের সঙ্গে আপোষ করে ক্ষতি ছাড়া কোনো লাভ হবে না। তাই তাদের উচিত হবে ইসরাইলের সঙ্গে যেকোনো আপোষ প্রক্রিয়া বা আলোচনা থেকে সরে দাঁড়ানো। ইসরাইলের সাথে আমিরাত ও বাহরাইনের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ব্যাপারে আরব লীগের অবস্থান থেকে বোঝা গেছে তারা ফিলিস্তিনিদের স্বার্থের বিষয়টিকে মোটেই গুরুত্ব দিচ্ছে না।। তাই ফিলিস্তিন স্বশাসন কর্তৃপক্ষ প্রতিবাদ হিসেবে অকার্যকর আরব এই জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি ভেবে দেখতে পারে।

ফিলিস্তিনিদের দ্বিতীয় করণীয় বিষয় হতে পারে, এ অঞ্চলের তা@বেদার সরকারগুলোকে বাদ দিয়ে আরব জনগোষ্ঠীর সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলা। ইরানে ইসলামি বিপ্লব বিজয়ের পর বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম ইমাম খোমেনি সারা বিশ্বের মুসলিম জনগোষ্ঠীকে ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কারণ তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, রাজতন্ত্র শাসিত আরব সরকারগুলো নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলার পক্ষপাতী এবং সেদিকেই তারা এগোচ্ছে। এ কারণে ফিলিস্তিন ইস্যুটি যাতে কেউ ভুলে না যায় সেজন্য ইমাম খোমেনি প্রতি বছর রমজানের শেষ শুক্রবার বিশ্ব কুদস দিবস পালনের ডাক দিয়েছিলেন।

বর্তমানে ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক দলগুলো বিশেষ করে স্বশাসন কর্তৃপক্ষ আপোষকামী আরব সরকারগুলোর আচরণে পুরোপুরি হতাশ হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় তাদের উচিত আরব ও অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোর জনগণের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলা। তেহরানে হামাসের প্রতিনিধি খালেদ কাদুমি মুসলিম জাতিগুলোর সাথে সহযোগিতা বিস্তারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

ফিলিস্তিনিদের তৃতীয় করণীয় বিষয় হতে পারে, ইসরাইলের সাথে আরব দেশগুলোর সমঝোতার ধ্বংসাত্মক পরিণতির বিষয়টি সবার কাছে তুলে ধরা। তাদের বেশি বেশি করে বলা উচিত কোনো রকম ছাড় বা সুবিধা না নিয়েই আরব সরকারগুলো ইসরাইলের সাথে শান্তি চুক্তি করেছে। এটাও বলা উচিত মার্কিন চাপের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছে এ দেশগুলো।

বাস্তবতা হচ্ছে, ইসরাইলের সাথে আরব সরকারগুলোর সমঝোতা আরব জনগণের কোনো কল্যাণ বয়ে আনবে না বরং এতে করে আরবরা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং তারা আরো বেশি পাশ্চাত্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। এসব বিষয়ে এ অঞ্চলের জনগণের আরো বেশি সচেতন হওয়া দরকার। কারণ জনবিচ্ছিন্ন সরকারগুলো ফিলিস্তিনিদের অধিকারকে উপেক্ষা করে ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়ার দিকে ঝুঁকছে।

ফিলিস্তিন স্বশাসন কর্তৃপক্ষের চতুর্থ করণীয় বিষয় হতে পারে, ইসরাইল বিরোধী প্রতিরোধ কর্মসূচিকে আরো জোরদার করা। আপোষ প্রক্রিয়া থেকে সরে এসে তাদেরকে অবশ্যই প্রতিরোধ যোদ্ধাদের পাশে এসে দাঁড়াতে হবে। এতে করে ইসরাইলের একপাশে জর্দান নদীর পশ্চিম তীর অন্যপাশে গাজা এলাকার চাপে ইসরাইল আতঙ্কিত না হয়ে পারবে না। মোটকথা, একমাত্র প্রতিরোধই পারে ইসরাইলকে কোণঠাসা করতে।

#পার্সটুডে