ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ই’মানুয়েল ম্যাকরন সামাজিক অখ’ণ্ডতা রক্ষায় দেশে ধ’র্মীয় স্বাধীনতা বজায় রাখার জন্য সবার প্রতি আহবান জানান। এসময় তিনি বলেন, আমি হিজাব পরিহিতা সকল নারীকে সম্মান করি।ম্যাকরন বলেন, গত কয়েক বছর বিশ্বে অ’ভিবাসনস্রোতের কারণে ফ্রান্সে ব্যাপক-আকারে ইস’লামের প্রসার শুরু হয়েছে। ফ্রান্সে মু’সলিম নাগরিকদের সংখ্যা সাড়ে চার হতে ছয় মিলিয়নের মতো।

তিনি আরো বলেন, ইস’লাম ধ’র্ম ফ্রান্সের জন্য অনেকটা নতুন। আমাদের অনেক নাগরিক ইস’লামকে ভ’য় পায়, আমি তাদের বলবো, ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য প্রত্যেক বিশ্বা’সীর স্বাধীনতার প্রতি সন্মান জানাতে হবে। হিজাব পরিধান বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ম্যাকরন বলেন, আমি হিজাব পরিহিতা প্রত্যেক নারীকে সম্মান করি।ফ্রান্সের প্রত্যেক নাগরিককে তাদের সন্মান করতে হবে, হিজাব নিষি’দ্ধের সম’র্ধক আমি নই। ম্যাকরন বলেন, ইস’লামে চরমপ’ন্থা না থাকা সত্ত্বেও চরমপ’ন্থী ও উগ্র স্রোতের কারণে ইস’লাম-ভীতি তৈরি হয়েছে।

এর্দোয়ানের মন্তব্যে ফ্রান্সে তীব্র প্রতিক্রিয়া, রাষ্ট্রদূতকে তলবঃ ন্যাটোজোটের এই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের ক্রমশ অবনতি ঘটছে৷ সবশেষ রিচেপ তাইয়েপ এর্দোয়ানের এক মন্তব্যে ক্ষুব্ধ ফ্রান্স৷ ইসলাম এবং মুসলিমদের প্রতি মাক্রোঁর দৃষ্টিভঙ্গির সমালোচনা করে শনিবার ফরাসি প্রেসিডেন্টের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এর্দোয়ান৷ স্থানীয় একটি রাজনৈতিক বৈঠকে তিনি বলেন, ‘‘মাক্রোঁ নামের এই ব্যক্তির ইসলাম ও মুসলমানদের নিয়ে সমস্যা কী?’’ আনাতোলিয়ার শহর কায়সেরিতে নিজের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির বৈঠকে তিনি এই উক্তি করেন৷ এর্দোয়ান আরো বলেন, ‘‘একজন রাষ্ট্রনেতাকে আর কী বলা যায় যিনি বিশ্বাসের স্বাধীনতা বোঝেন না এবং তার দেশে বসবাসরত কয়েক মিলিয়ন ভিন্ন বিশ্বাসের অনুসারীদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন?’’

এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতির দপ্তর৷ এক বিবৃতিতে তারা একে অপমানজনক ও অগ্রহণযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, ‘বাড়াবাড়ি ও অভদ্রতা কোন উপায় হতে পারে না’৷ বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ‘‘আমরা এর্দোয়ানকে তার নীতি পরিবর্তনের দাবি জানাচ্ছি, যা সবদিক থেকেই বিপদজনক৷’’ এই ঘটনার পর আঙ্কারায় নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূতকে প্যারিসে ডেকে পাঠানো হয়েছে বলে রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে৷ আলোচনার জন্যই এই তলব বলে মাক্রোঁর দপ্তরকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে দেশটির বার্তা সংস্থা এএফপি৷ সিরিয়া, লিবিয়া, নাগর্নো-কারাবাখ ইস্যুতে গত কয়েক মাস ধরেই ন্যাটো জোটের দুই সদস্য ফ্রান্স ও তুরস্কের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল৷ সেখানে এর্দোয়ানের মন্তব্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ল৷

মাক্রোঁর প্রতি ইমরান খানের ক্ষোভঃ এদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইসলামের উপর আক্রমণ করেছেন বলে অভিহিত করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান৷ এ নিয়ে বেশ কয়েকটি টুইট করেছেন তিনি৷ উগ্রতাকে উস্কে দেয়ার জন্য তিনি মাক্রোঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন৷ তার মতে, সন্ত্রাসী মুসলিম, শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী বা নাৎসি ভাবধারারও হতে পারে৷ কিন্তু মাক্রোঁ তার বদলে ইসলামকে আক্রমণের মাধ্যমে ইসলামভীতিকে উৎসাহিত করছেন৷ ‘সারা বিশ্বে ইসলাম ধর্ম সংকটে রয়েছে’ এই মাসের শুরুতে এমন মন্তব্য করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট৷  সম্প্রতি মত প্রকাশের স্বাধীনতার উদাহরণ হিসেবে ক্লাসে শিক্ষার্থীদের হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) কে নিয়ে প্রকাশিত একটি কার্টুন প্রদর্শন করেছিলেন এক ফরাসি শিক্ষক৷ এই ঘটনার পরে গত সপ্তাহে তাকে হত্যা করেন এক মুসলিম৷ ঐ শিক্ষককে নায়ক হিসেবে অভিহিত করে মাক্রোঁ বলেছেন, তিনি ফ্রান্সের অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ তুলে ধরেছেন৷ ফ্রান্স এই ধরনের কার্টুন বাতিল করবে না বলেও উল্লেখ করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট৷