ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনার অশোকনগরের কল্যাণগড় গ্রামের বাসিন্দারা আছেন এক ভূতের আতঙ্কে। গ্রামের মানুষের এই আতঙ্ক অনেক দিন ঘরে বন্ধ থাকা একটি কলেজ ভবনকে ঘিরে। অনেক দিন ধরে বন্ধ থাকায় সেখানে ভূতের বসবাস বলে দাবি গ্রামের মানুষের। সেখানে ভৌতিক নানা ঘটনা ঘটছে বলেও জানান বাসিন্দারা। গুরুতর অভিযোগ সেই ভবন থেকে রাতে ভেসে আসে কান্নার শব্দ। রাত বাড়তে থাকলে বাড়ে এই কান্নার শব্দও। অভিযোগ গড়িয়েছে থানা পর্যন্ত। ঘটনার বিস্তারিত জানতে উপস্থিত হয় অশোকনগর থানা পুলিশ।

পুলিশের কাছে কেউ অভিযোগ করেছেন, নারীর কান্না শুনতে পাওয়ার কথা আবার কেউ বলেছেন ঘোঁঙ্গানির শব্দ শুনতে পাওয়ার কথা। পুলিশের সঙ্গে আসা বিজ্ঞান মঞ্চের কর্মীরা মানতে নারাজ এসব অভিযোগ। তারা দিচ্ছেন বিজ্ঞানের নানা যুক্তি। তবে গত তিন বছরের বেশি সময় ধরে গ্রামবাসী এই আতঙ্ক নিয়ে চলছে বলে জানা গেছে। তাই তারা মানতে নারাজ পুলিশ ও বিজ্ঞান মঞ্চের এসব যুক্তি। করোনার কারণে এলাকায় মানুষের চলাচল কমে যাওয়ায় এই আওয়াজ আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছে এলাকার মানুষ। এতেই খবরের কাগজে উঠে এসেছে এই ঘটনার বিবরণ। তবে পুলিশকে কয়েকজন জানান, কান্নার শব্দ শোনার পরপরই তারা ভেতরে ঢুকে দেখার চেষ্টা করেছেন কেউ আছে কিনা। তবে কাউকে দেখতে না পেয়ে তারা আরো আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এই অবস্থা গত ৬ মাস যাবত বাড়ছে প্রতিদিন। তাই এলাকার মানুষের মধ্যেও আতঙ্কও বাড়ছে।

সনাতন ধর্মের বিভিন্ন শাস্ত্রে বর্ণিত পবিত্র অনুষ্ঠানগুলোর একটি হচ্ছে যজ্ঞ। দেবতাদের আহুতি প্রদান করে আশীর্বাদ পাওয়ার জন্য এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়ে থাকে। এর মাধ্যমে অমঙ্গল থেকে রক্ষা এবং কোনো খারাপ আত্মার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায় বলে ধারণা ভক্তদের। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কলেজটি তৈরির সময় দু’দিনব্যাপী হোম যজ্ঞ করা হয়েছিলো। তবে কি কারণে এটি করা হয়েছিলো সে বিষয়ে কেউ জানে না। এখন সবাই প্রশ্ন তুলছে এ বিষয়টি নিয়েও। তাদের ধারণা এখানে কোনে ভৌতিক আত্মার উপস্থিতি অনেক আগ থেকেই ছিলো কিনা।

তবে, পুলিশ ও বিজ্ঞান মঞ্চের কর্মীরা কলেজটি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করেও কোনো কূল কিনারা করতে পারেন নাই। তারা উত্তর দিতে পারেননি সাধারণ মানুষের কোনো প্রশ্নের। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি দিনের বেলায় কলেজের কার্যক্রম চলার সময় এমন কোনো পরিস্থিতির আলামত তারা পাননি। গণযোগাযোগের থিওরি অনুযায়ী মানুষ টেলিভিশনে বা কোনো অনুষ্ঠানে যা দেখে বা শোনে তা নিজেদের মধ্যে ধারণ করে। তেমনি ভৌতিক সিনেমায় যা দেখে মানুষ তার ভয়ানক দিকগুলোকে মনে রাখে। এবং সিনেমায় বা সিরিয়ালে দেখানো কোনো অন্ধকার বা জনমানব শূন্য কোনো এলাকায় ভয় পেয়ে থাকে। তাই বিজ্ঞান মঞ্চের কর্মীরা এটিকে গ্রামের মানুষের মধ্যে টেলিভিশনে দেখা ভৌতিক সিনেমার কাল্টিভেশান বলে দাবি করছেন।