কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের কাছে মসজিদের পাশে মাটি খুঁড়তেই উদ্ধার মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ! ফের উঠছে এই দাবী। দাবি উঠেছে অযোধ্যার মতোই এই জ্ঞানব্যাপী মসজিদও মন্দির ভেঙেই তৈরি হয়েছে ৷ মসজিদের পাশের মাটি খুঁড়তেই উদ্ধার শতাব্দী পুরনো মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ ৷ তাতেই ফের মাথাচাড়া দিয়েছে বিতর্ক ৷ অযোধ্যার রামমন্দিরের পর কাশী বিশ্বনাথেও ফের মন্দির প্রতিষ্ঠার দাবি ৷ মুঘলদের শাসন কালে মন্দির ভেঙে তার উপরই মসজিদ বানানোর তত্ত্ব এই ঘটনায় আরও একবার জোরদার হয়েছে ৷ বলা হচ্ছে অযোধ্যার মতোই এই জ্ঞানব্যাপী মসজিদও মন্দির ভেঙেই তৈরি হয়েছে ৷

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ড্রিম প্রোজেক্ট কাশী বিশ্বনাথ করিডর প্রকল্পের জন্য খনন কার্য চলাকালীনই মসজিদের পাশের মাটি খুঁড়তেই আবিষ্কার হয় ১৬ শতকের প্রাচীন এক মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ! মিলেছে একটি সুড়ঙ্গেরও হদিশ। জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের পশ্চিমদিকে জ্ঞানভারিদ ময়দানের শৃঙ্গার গৌরি মন্দিরে বুলডোজার দিয়ে খননকার্য চলছিল। সেই সময়ই শ্রমিকেরা মাটির নীচে বহু প্রাচীন একটি সুড়ঙ্গ দেখতে পান । তড়িঘড়ি কাজ থামিয়ে দেওয়া হয়। খবর দেওয়া হয় মন্দির কর্তৃপক্ষকে। কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের প্রধান একসিকিউটিভ অফিসার গৌরাঙ্গ রথি জানান, খননকার্য চলাকালীন নলেজ গ্রাউন্ডে প্রাচীন মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ মেলে। BHU ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের বিশেষজ্ঞদের খবর দেওয়া হয়েছে। কাশী বিশ্বনাথ করিডর ৬০০ কোটি টাকার প্রকল্প। গঙ্গায় ললিতা ঘাট-জলসেন ঘাট থেকে সরাসরি কাশী বিশ্বনাথ মন্দির। করিডরের মধ্যে থাকবে নানা মন্দির, সংগ্রহশালা। তীর্থযাত্রীরা দেখবেন কাশীর সমাজ-সংস্কৃতির ইতিহাস।

বাবরি মসজিদ-রাম মন্দির বিতর্ক : যা বলছে ইতিহাস

ভারতের বহু প্রতীক্ষিত অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ও রাম মন্দির নিয়ে করা মামলার রায় সুপ্রিম কোর্টে ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে বাবরি মসজিদের বিরোধপূর্ণ জমি রামজন্মভূমি ট্রাস্টকে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। সেক্ষেত্রে নতুন একটি মসজিদ নির্মাণে আলাদা বিকল্প কোনো জমি বরাদ্দের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। খবর ‘এনডিটিভির’। সাবেক প্রধান বিচারপতি তার রায় ঘোষণায় বলেছেন, এই রায় সম্পূর্ণ ঐকমত্যের একটি রায়। তবে মসজিদের নিচে ঠিক কোন স্থাপনা ছিল এখনো তা নির্দিষ্ট করে জানাতে পারেনি অর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া। ভারতের সর্বোচ্চ আদালত আরও জানিয়েছে, কোনো ফাঁকা জায়গায় মসজিদ তৈরি হয়নি। ১৯৪৯ সালের ডিসেম্বরে এখানে শেষবার নামাজ হয়েছিল। সেক্ষেত্রে বিকল্প জমি পাবে মুসলিমরা। এমনকি শর্তসাপেক্ষে হিন্দুদেরও মূল বিতর্কিত অংশ থেকে জমি দেওয়া হবে বিতর্কিত এই পবিত্র স্থানের ইতিহাস পর্যালোচনা করে গণমাধ্যম ‘বিবিসি বাংলা’ জানায়, ১৯৯২ সালে ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় শহর অযোধ্যায় বাবরি মসজিদকে আরও একবার ধ্বংস করা হয়েছিল। ধর্মীয়ভাবে পবিত্র হিসেবে বিবেচিত এই অঞ্চলটিতে বহুবছর যাবত হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে

১৫২৮ সাল : স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের কিছু লোকদের মতে, হিন্দুদের অন্যতম আরাধ্য দেবতা রাম যেখানে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন সেখানেই মোঘল সম্রাট বাবরের নির্দেশে একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়।১৮৫৩ সাল : ধর্মকে কেন্দ্র করে প্রথমবারের মতো অঞ্চলটিতে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। ১৮৫৩ সাল : ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক প্রশাসন এই ধর্ম দুটির লোকজনের উপাসনার জন্য জায়গাটিকে পৃথক করার উদ্দেশ্যে বেষ্টনী নির্মাণ করে। যেখানে বেষ্টনীর ভেতরের চত্বর মুসলিমদের এবং বাইরের চত্বর হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের ব্যবহার করার জন্য নির্ধারিত হয় ১৯৪৯ সাল : মসজিদের ভেতর ভগবান রামের মূর্তি স্থাপন করা হয়। স্থানীয় হিন্দুদের বিরুদ্ধে মূর্তিগুলো রাখার অভিযোগ ওঠে। এতে মুসলিমরা প্রতিবাদ জানালে দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করে। পরবর্তীকালে সরকার চত্বরটিকে একটি বিতর্কিত স্থান বলে ঘোষণা করে এবং যার দরজা সকলের জন্য পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ১৯৮৪ সাল : বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) নেতৃত্বে ভগবান রামের জন্মস্থান পুনরুদ্ধার এবং তার সম্মানের একটি মন্দির প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কমিটি গঠন করা হয়। তৎকালীন বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আদভানি (পরবর্তীকালে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) ঐ প্রচারণার নেতৃত্ব নেন ১৯৮৬ সাল : জেলার বিচারক নির্দেশ দেন যেন বিতর্কিত মসজিদের দরজা উন্মুক্ত করণের মাধ্যমে হিন্দুদের সেখানে উপাসনার সুযোগ করে দেওয়া হয়। মুসলিমরা এই নির্দেশের প্রতিবাদে বাবরি মসজিদ অ্যাকশন কমিটি গঠন করে।