গোমাংস বিক্রির অভিযোগে বেধড়ক গণপিটুনির ঘটনায়  ভুক্তভোগীকে এক লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দিতে আসাম সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। গত মাসে আসাম রাজ্যের বিশ্বনাথ জেলার ওই ঘটনায় কমিশন এও জানিয়েছে, পুলিশসহ প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা এখনো কারণ দর্শাও নোটিশের জবাব দেননি।

গত বছর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তার ধারে হাঁটু মুড়ে বসে তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য কাকুতি-মিনতি করছেন ৪৮ বছরের শওকত আলি। তবে তাতে বিন্দুমাত্র ভ্রূক্ষেপ না করে চলছে অকথ্য অত্যাচার। মারধর করা হচ্ছে শওকত আলিকে; উপস্থিত রয়েছেন কিছু পুলিশ সদস্যও। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।

তদন্তে জানা যায়, ঘটনাটি ২০১৯ সালের ৭ এপ্রিল। শওকত আলি বাজারে গরুর গোশত বিক্রি করছিলেন বলে দাবি করে একদল জনতা। আসামে গোমাংস বিক্রি করা ও খাওয়া আইনত বৈধ। কিন্তু তবু শওকতের কাছে গোমাংস বিক্রি করার লাইসেন্স আছে কিনা জিজ্ঞেস করে উত্তেজিত জনতা তাঁর কাছে জানতে চায়, ‘তুমি কি বাংলাদেশি? তোমার নাম কি এনআরসি-তে (জাতীয় নাগরিকপঞ্জি) আছে?’

এখানেই শেষ নয়, এরপর জনসমক্ষে জোর করে শওকত আলিকে শুয়োরের মাংস খাওয়ানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর গত বছরের সেপ্টেম্বরে বিরোধী নেতা দেবব্রত সইকিয়ার অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নামে মানবাধিকার কমিশন। পুলিশের মহাপরিচালকের কাছে ঘটনার প্রতিবেদন তলব করা হয় চার সপ্তাহের মধ্যে। মুখ্য সচিবকেও শোকজ করা হয়। কিন্তু কোনোটির উত্তরই আসেনি এখনো।

শওকত আলির ভাই সাহাবুদ্দিন আলির লিখিত অভিযোগও রয়েছে এ বিষয়ে। তিনি দাবি করেছিলেন, তাঁর ভাই বাজারে একটি ছোট দোকানে রান্না করা গরুর মাংস বিক্রি করেন। এটাই তিন দশক ধরে তাঁদের পারিবারিক ব্যবসা। কখনো কোনো সমস্যা হয়নি এত দিন। শেষমেশ গতকাল বুধবার ভারতের মানবাধিকার কমিশন রায় দেয়, যে ঘটনা ঘটেছে, তাতে শওকত আলির মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। তাঁর জাত ও ধর্ম নিয়ে অপমান করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এক লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দিতে হবে শওকত আলিকে। ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রমাণ কমিশনের কাছে দাখিল করতে হবে ছয় সপ্তাহের মধ্যে।