রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে অভিনেতা আব্দুল কাদেরের মরদেহ মিরপুরের বাসভবনে নেওয়া হয়েছে। সেখানে অভিনেতার স্ত্রী খাইরুন নেসা স্বামীর শেষ ইচ্ছের কথা জানিয়েছেন।

আব্দুল কাদেরের স্ত্রী খাইরুন নেসা উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, “উনি সব কাজ শেষ করে যেতে পারেননি, কিছু কাজ তো বাকি আছে। নাতি-নাতনি (নাতি সাদমান এহসাস ও নাতনি সিমরীন লুবাবা) তাঁর জান ছিল, সব সময় বুকে আগলে রাখতেন, পাগল ছিলেন… শেষবারের মতো উনি দেখে যেতে চাইতেন, নাতি-নাতনি পড়াশোনা করবে; নাতনি এখন যে অভিনয় করছে, ওটা নিয়মিত করবে। তারপর সে গান শিখবে। তারপর তাঁর ইচ্ছে ছিল, সে ডাক্তার হবেই। এই কাজগুলো তিনি করে যেতে পারলেন না। নাতনিকে নিজে কেঁদে-কেঁদে অভিনয় করে দেখাতেন… এভাবে করবে…।’ এরপর কান্নায় ভেঙে পড়েন খাইরুন নেসা।

জনপ্রিয় অভিনেতা আব্দুল কাদেরের মরদেহ আজ দুপুর ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে নেওয়া হবে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য। আর বাদ মাগরিব রাজধানীর বনানী কবরস্থানে জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ দাফন করা হবে। আব্দুল কাদের এভারকেয়ার হাসপাতালে আজ সকাল ৮টা ২০ মিনিটে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে বিনোদন অঙ্গনজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কাদেরের প্যানক্রিসের (অগ্ন্যাশয়) ক্যানসার জটিল আকার ধারণ করলে গত ৮ ডিসেম্বর চেন্নাইয়ে নেওয়া হয়। বেশ কিছু পরীক্ষার পর ১৫ ডিসেম্বর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ভারতের চেন্নাইয়ের ভেলোর শহরের সিএমসি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পর ২০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এ অভিনেতাকে। এরপর তাঁর করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। গতকাল শুক্রবার মধ্যরাতে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়।

আব্দুল কাদের কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের লেখা ‘কোথাও কেউ নেই’ ধারাবাহিক নাটকে ‘বদি’ চরিত্রে অভিনয় করে তুমুল আলোচনায় আসেন। এ ছাড়া জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র পরিচিত মুখ তিনি। হাস্যরসাত্মক চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি তুমুল জনপ্রিয় টেলিভিশনের পর্দায়।