রমজান ও লকডাউন চলাকালীন নিম্নআয়ের মানুষদের বাড়িভাড়া মওকুফ করা, খাদ্যের যোগানসহ নয় দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স (বিইউপিএ)। শনিবার (১০ এপ্রিল) জোটের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সভায় বিইউপিএ নেতারা এ দাবি জানান। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। সামনে রোজা ও একই সময়ে লকডাউনের ঘোষণা আসছে। এমন পরিস্থিতিতে নিম্নআয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়বে।

আসন্ন পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বিশেষ রেশনিং ব্যবস্থা চালু করার দাবিসহ রাষ্ট্রীয় খরচে ব্যাপক পরিসরে করোনা টেস্টের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সভায় জোটের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক মুক্তি আন্দোলনের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী হাওলাদার সভাপতিত্ব করেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

লকডাউন: ১২ ও ১৩ এপ্রিল কী হবে?
দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে টালমাটাল সবকিছু। রেকর্ড ভাঙার প্রতিযোগিতায় প্রতিদিন হাজির হচ্ছে আতঙ্ক নিয়ে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৭৭ জন মারা গেছেন। এরপরও হাটবাজার-পথঘাট কোথাও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। এদিকে দেশে চলছে সাতদিনের শিথিল ‘লকডাউন’। যা রোববার (১১ এপ্রিল) শেষ হবে। এ লকডাউনের শুরুতে ১১ দফা নিষেধাজ্ঞা থাকলেও দূরপাল্লার বাস আর পর্যটনকেন্দ্র ছাড়া এখন সবই খোলা। এর মধ্যে শুক্রবার ঘোষণা দেওয়া হয়, ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হবে এক সপ্তাহের ‘কঠোর লকডাউন’।

এমন পরিস্থিতিতে মাঝের দুদিন অর্থাৎ ১২ ও ১৩ এপ্রিল কী হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই দুইদিন কি সব স্বাভাবিক চলবে, নাকি বর্তমান অবস্থা ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ এর মতো চলবে, তা জানে না কেউ। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলছেন, এমনিতেই মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। সরকার ঢিমেতালে চলছে। ফলে এই দুইদিন স্বাভাবিক রাখার কোনো কারণ নেই। অন্তত বর্তমান অবস্থার মতো রাখতে হবে। অন্যথায় হাজারো মানুষ ছুটবে গ্রামের দিকে, দ্বিগুণের বেশি ভিড় বাড়বে শহর আর শপিংমলে।

তারা বলছেন, সবার এমন অবহেলা দেখে বারবারই সতর্ক করে আসছিলাম আমরা। কিন্তু কারো যেন কানে তোলার সময় নেই। ফলশ্রুতি করোনা ভাইরাসের দাপট। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, মাঝের দুদিন কী হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। আগামীকালের (১১ এপ্রিল) মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। আর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান অবস্থার মতোই ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত চলার কথা বলা হতে পারে।

এদিকে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভায় মতামত এসেছে, অন্তত দুই সপ্তাহ যাতে পূর্ণ লকডাউন দেওয়া হয়। পাশাপাশি সংক্রমণপ্রবণ ৬টি জেলায় সেটা জোরালো করার বিকল্প দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আতিকুল হক বলেন, করোনা সংক্রমণপ্রবণ এলাকাতে কঠোর লকডাউন দেওয়া প্রয়োজন, প্রয়োজনে কারফিউ জারি করে সংক্রমণটাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। বিআইডিএসের সিনিয়র গবেষক ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, বর্তমানে চলমান এ লকডাউন নিয়ে প্রশ্নই করা যায় যে, ৭ দিন করে দিলে আবার বাদ দিয়ে আবার ৭ দিন- এভাবে করে করোনার ঝুঁকি কমানো যাবে না। একসঙ্গে দিলে হয়তো ঝুঁকিটা কমানো যেত।

বাঁচতে হলে দ্রুত জাতীয় পরামর্শক কমিটির পরামর্শ মেনে দুই সপ্তাহ লকডাউনে যাওয়ার ওপর জোর দেন ড. নাজনীন আহমেদ। বলেন, এর মধ্যে অধিক সংক্রমণ প্রবণ ৬ জেলায় লকডাউন কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে। তিনি মনে করেন, নামকাওয়াস্তে নয়, লকডাউন হতে হবে সমন্বিত। শুক্রবার জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানান, আগামী ১৪ এপ্রিল (পহেলা বৈশাখ) থেকে ৭ দিন পরিপূর্ণভাবে কার্যকর করা হবে লকডাউন। লকডাউনের বিষয়ে আগামী রোববার (১১ এপ্রিল) প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। এবারের লকডাউনে জরুরি সেবা ছাড়া সব কিছু বন্ধ থাকবে বলেও জানান তিনি।