গণমাধ্যম হিসেবে সবচেয়ে বড় এবং মর্যাদাবান চলচ্চিত্র। শিল্প-সংস্কৃতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যমও বলা হয় এটিকে। অনেক প্রস্তুতি নিয়ে যত্নের সঙ্গে একজন নির্মাতা ক্যামেরার তুলিকে আঁকেন গল্প ও চরিত্রদের। যার যতো মুন্সিয়ানা তার অর্জন ও প্রশংসা তত বিস্তৃত।কালে কালে চলচ্চিত্রের নৌকায় অনেক দক্ষ মাঝি যেমন চালক হয়েছেন তেমনি চলচ্চিত্র ডুবিয়ে দেয়া মাঝির সংখ্যাও কম নয়। বিশেষ করে ঢাকাই সিনেমার ইতিহাসে অনেক চলচ্চিত্র পরিচালকই রয়েছেন যারা বড় পর্দায় কাজ করতে এসে সমালোচিত হয়েছেন।

তবে নামটি যখন দেলোয়ার হোসেন ঝন্টু হয় তখন সিনেমার দর্শক বা অনুরাগী মাত্রই প্রত্যাশা করেন দারুণ কিছুর। ইন্ডাস্ট্রির একজন গুণী নির্মাতা। দীর্ঘ দিনের সিনেমাযাত্রায় তিনি সাড়ে তিন শ’র বেশি চিত্রনাট্য লিখেছেন, পরিচালনা করেছেন ৭৩টি চলচ্চিত্র।সেই মানুষটি যখন সিনেমা বানাতে গিয়ে তার ছবির নায়িকাকে গানের শুটিংয়ে দর্শককে ‘হাস্যকর’ভাবে বোকা বানাতে চান তখন সত্যিই হতাশ হতে হয়। হয়েছেও তাই। ঝন্টু তার সর্বশেষ সিনেমা ‘তুমি আছো তুমি নেই’ এর ট্রেলার প্রকাশ করেছেন সম্প্রতি। এটি প্রকাশ্যে আসতেই সমালোচনার মুখে পড়েছে মানহীন গল্প ও নির্মাণের অদক্ষতার অভিযোগে। সেইসঙ্গে তুমুল জনপ্রিয় শিশুশিল্পী থেকে নায়িকা হওয়া দীঘিকেও করেছে সমালোচিত ট্রেলারে তার উপস্থাপনা দেখে।

বিশেষ করে আলোচনায় এসেছে একটি গানের দৃশ্য। যেখানে দীঘিকে দেখা যাচ্ছে শাড়ি পড়ে মাইক্রোফোন হাতে গান গাইছেন। সেই দৃশ্যে দীঘির হাতে আদতে কোনো মাইক্রোফোনই নেই। যা তিনি ধরে আছেন সেটি একটি প্লাস্টিকের বোতলের উপর কালো কস্টেপ মেরে তৈরি করা। এই দৃশ্যের স্ক্রিনশট এরইমধ্যে ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।যে গানটিতে দীঘি অভিনয় করলেন সেটিও নকল। ট্রেলারে গানের দুই লাইন শুনেই বোঝা গেল এর সুর নব্বই দশকের সুপারহিট হিন্দি সিনেমা ‘দিল’-এর ‘নিদ নাহি আয়ে’ গানের হুবহু কপি। এই ছবিতে অভিনয় করেছেন আমির খান ও মাধুরী দীক্ষিত।

নেটবাসীরা দীঘির গানের দৃশ্যটি সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে ছবিটির পরিচালক, গানটির কোরিওগ্রাফারের কঠোর সমালোচনা করছেন। অনেকে বলছেন, ‘এমন হাস্যকর আইডিয়া আজকের যুগের সিনেমায় কি করে প্রয়োগ করা যেতে পারে! আর যদিও বা করেছেন তবে সেটি এত স্পষ্ট করে বোঝা যাচ্ছে কেন।’অনেকে দীঘির মানসিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। এই যুগে এসে তিনি কেমন করে বোতল দিয়ে বানানো মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে গানের দৃশ্যে অংশ নিতে পারেন?

কেউ কেই ছবির বাজেট নিয়ে কটাক্ষ করে লিখছেন, ‘বাজেট না থাকলে নাটক বানালেই হয়। সিনেমার মতো বড় পরিসরে কাজ করার কি দরকার!’তবে এ বিষয়ে জানতে ছবির পরিচালক দেলোয়ার জাহান ঝন্টু বা নায়িকা দীঘির সঙ্গে যোগাযোগ করলে কোনো সাড়া মেলেনি।

প্রসঙ্গত, ‘তুমি আছো তুমি নেই’ সিনেমার সমালোচনা এই সিনেমার শুরু থেকেই সঙ্গী। শুরুতে ছবির নায়ক নির্বাচন নিয়ে জলঘোলা হয়েছে। প্রথমে বাপ্পি ছিলেন ছবিটির নায়ক। পরে নায়ক হিসেবে আসেন সাইমন। তিনিও ছবিটি থেকে সরে যান। এরপর সিনেমাটিতে নায়ক হিসেবে নায়ক হিসেবে যুক্ত হন আসিফ ইমরোজ।তার বিপরীতেই দেখা যাবে দীঘিকে। আছেন আরও এক নায়িকা সিমি। এখানে আরও অভিনয় করেছেন অমিত হাসান, সুব্রতসহ অনেকেই।আগামী ১২ মার্চ ছবিটি মুক্তি পাবার কথা রয়েছে।

Incidentally, the critique of the movie ‘Tumi Acho Tumi Nei’ has been a companion since the beginning of this movie. In the beginning, there was confusion over the selection of the hero of the film. At first Bappi was the hero of the film. Later Simon came as the hero. He also moved away from the film. Then Asif Imroz joined the movie as the protagonist. Dighi will be seen opposite him. There is another heroine Simi. Amit Hasan, Subrata and many others have also acted here. The film is scheduled to be released on March 12.