এবার ভারতকে এক প্রকার নিষেধাজ্ঞার হুমকিই দিয়ে বসেছে দেশটি। সেই পদক্ষেপেই এক ধাপ এগিয়ে এই বিষয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করছে মার্কিন কংগ্রেসের কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিস। এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ইকোনোমিক টাইমস।

জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে ভারত যদি রাশিয়ার কাছ থেকে এই এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম কেনে তাহলে আগামী দিনে বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতে পারে নয়াদিল্লিকে। তবে মার্কিন এই হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করেই চুক্তি অনুযায়ী প্রথম কিস্তিতে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার রাশিয়াকে দিয়ে দিয়েছে ভারত।

২০২১ সালের নভেম্বরে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, আমেরিকার এই নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করেই ভারতের সঙ্গে সমস্ত রকমের প্রতিরক্ষা চুক্তি একে একে কার্যকর করে চলবে দেশটি।

তবে ভারত প্রথম দেশ নয় যার বিরুদ্ধে এই এস-৪০০ কেনার জন্য নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দিয়েছে আমেরিকা। ভারতের আগে রাশিয়ার কাছ থেকে এই অস্ত্র কেনে তুরস্ক। যার ফলে ইতিমধ্যে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হয়েছে ন্যাটো সদস্য সেই দেশকে।

তবে আমেরিকার এই রিপোর্টটিকে খুব বেশি পাত্তা দিতে নারাজ ভারত। মূলত মস্কোর সঙ্গে পরীক্ষিত বন্ধুত্ব বজায় রেখেই আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করতে চায় নয়াদিল্লি। তাছাড়া, কৌশলগত কারণে এশিয়ায় চীনকে রুখতে ভারতের ওপরই ভরসা রাখতে হবে ওয়াশিংটনকে।

এদিকে করোনা বছরের শেষে এসেও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ভারত। দেশটির বাণিজ্য ঘাটতি দেখা দিয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫৭১ কোটি মার্কিন ডলার। বিশেষ করে পেট্রোলিয়াম, লেদার এবং সামুদ্রিক পণ্য রফতানি কমে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (০২ জানুয়ারি) রাতে দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নিজেদের ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশ করে। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ডিসেম্বর মাসে ০ দশমিক ৮ শতাংশ কমে রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৮৯ কোটি মার্কিন ডলার। পক্ষান্তরে আমদানি ৭ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২৬০ কোটি মার্কিন ডলার। ফলে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ গিয়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৫৭১ কোটি মার্কিন ডলারে।

অন্যদিকে, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে রফতানি ছিল ২ হাজার ৭১১ কোটি মার্কিন ডলার। যেখানে আমদানি ছিল ৩ হাজার ৯৫০ কোটি মার্কিন ডলার। তাই আগের বছরের তুলনায় গেল বছরে রফতানি কমেছে ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এদিকে তেল আমদানি ১০ দশমিক ৩৭ শতাংশ কমে ৯৬১ কোটি মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এপ্রিল থেকে ডিসেম্বরে (২০২০) আমদানি কমেছে ৪৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ বা ৫ হাজার ৩৭১ কোটি মার্কিন ডলার।

এর আগে অক্টোবরে গ্লোবাল রেটিং এজেন্সি ফিচ সতর্ক করে জানিয়েছিল অর্থবছরে ভারতের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্য হারে সংকোচিত হবে। সে সতর্ক বার্তা এবার ধীরে ধীরে সত্যি হতে চলল দেশটির ক্ষেত্রে। তবে এ সতর্কবানী চীনের ক্ষেত্রে কাজে দেয়নি। করোনাকে সামলে রেকর্ড জিডিপি অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়েছে গণচীন।