আসন্ন ‘ইস্টার’ উৎসব উপলক্ষে এবার সব এলাকা রেড জোনের আওতায় আনলো ইতালির সরকার। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে পুরোনো এ ধর্মীয় উৎসবে জনসমাগম ঠেকাতেই তিনদিনে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেছে দেশটি। একে করোনার তৃতীয় ঢেউ চলছে দেশটিতে। তার মধ্যেই এলো ধর্মীয় এ উৎসব। তারই জেরে অপ্রয়োজনে বাইরে ঘোরাঘুরি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করেছে দেশটি। তবে এ ধর্মীয় অনুষ্ঠান বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে উদযাপনে কোনো বাধা নেই। রেড জোন ঘোষিত এলাকায় সব ধরনের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। তবে ইস্টার উপলক্ষে একই এলাকায় বসবাস করা মানুষ তাদের আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে যেতে পারবে

লকডাউন চললেও গির্জাগুলো খোলা থাকছে। কিন্তু উপাসকরা ‘ইস্টার’ অনুষ্ঠানে গণহারে মানুষের যোগ দিতে নিরুৎসাহিত করছেন। ফলে গত বছরের মতো এবারও পোপ ফ্রান্সিস জনশূন্য সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে ‘ইস্টার’-এর বক্তব্য রাখবেন। সংক্রমণ ঠেকাতে ঘোষিত লকডাউন কঠোরভাবে পালনে জনসাধারণকে বাধ্য করছে দেশটির প্রশাসন। নিত্যপণ্য ও ওষুধের দোকান ছাড়া সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ রাখা হচ্ছে। তবে রেস্টুরেন্টগুলো থেকে অনলাইনে খাবার কেনার সুযোগ রয়েছে। ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নের জন্য দেশব্যাপী ৭০ হাজার পুলিশ অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সূত্র: বিবিসি

এদিকে করোনা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় আগামী সোমবার (৫ এপ্রিল) থেকে এক সপ্তাহের জন্য সারাদেশে লকডাউনের ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। শনিবার ঢাকায় নিজের সরকারি বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, সোমবার থেকে এক সপ্তাহের জন্য সারাদেশে লকডাউন ঘোষণা করছে সরকার।

করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং মাস্ক পরা জরুরি কর্তব্য বলে মনে করে সেগুলো পালন করার আহ্বান জানান সেতুমন্ত্রী। ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। কিন্তু এখনো অনেকেই মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধির প্রতি অনীহা দেখাচ্ছে, যা প্রকারান্তরে ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে আসতে পারে। নিজেদের সুরক্ষায় সবাই সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করাই এখন মূল কাজ। অন্যদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও এ কথা বলা হয়েছে। সেখানে জানানো হয়, দ্রুত ছড়াতে থাকা করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার দুই-তিন দিনের মধ্যে এক সপ্তাহের জন্য লকডাউনের চিন্তা করছে।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানান, তবে শিল্প কলকারখানা খোলা থাকবে এবং সেগুলোতে শিফটিং ডিউটি চলবে। গেল কয়েকদিন ধরেই প্রতিদিন ছয় হাজারের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার একদিনে শনাক্ত সাত হাজারের কাছাকাছি পৌঁছায়, এরআগে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কয়েকদিন আগে দুই সপ্তাহের জন্য ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করে সরকার। নির্দেশনায় সকল ধরনের জনসমাগম (সামাজিক/রাজনৈতিক/ধর্মীয়/অন্যান্য) সীমিত, উচ্চ সংক্রমণযুক্ত এলাকায় সকল ধরনের জনসমাগম নিষিদ্ধ, বিয়ে/জন্মদিনসহ যে কোনো সামাজিক অনুষ্ঠান উপলক্ষে জনসমাগম নিরুৎসাহিত করার নির্দেশনা দেয় সরকার।